গভীর ঘুম কেন আপনার সেরা ঔষধ? জানুন ঘুমের অভাব আপনার শরীরে কী ক্ষতি করছে…
আমরা অনেকেই মনে করি ঘুম মানে কেবল বিশ্রাম। কিন্তু আসলে ঘুমের সময় আমাদের শরীর এবং মস্তিষ্ক একটি “রিসেট” প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যায়। আপনি যদি রাতে নিয়মিত ৬ ঘণ্টার কম ঘুমান, তবে আপনি অজান্তেই আপনার শরীরকে বড় ধরনের বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন।

১. মস্তিষ্ক যখন আবর্জনা পরিষ্কার করে (Glymphatic System)
দিনের বেলা যখন আমরা জেগে থাকি, আমাদের মস্তিষ্কের কোষে বিভিন্ন প্রোটিন ও বর্জ্য জমা হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, গভীর ঘুমের সময় মস্তিষ্কে একটি বিশেষ তরল (Cerebrospinal Fluid) প্রবাহিত হয় যা এই বর্জ্যগুলো ধুয়ে ফেলে।
- ঝুঁকি: পর্যাপ্ত ঘুম না হলে এই বর্জ্যগুলো মস্তিষ্কে জমা হয়ে স্মৃতিশক্তি কমিয়ে দেয় এবং ভবিষ্যতে আলঝেইমার্স বা ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
২. ঘুম এবং হরমোনের ভারসাম্য (যৌন ও শারীরিক স্বাস্থ্য)
যৌন হরমোন এবং গ্রোথ হরমোন নিঃসরণের জন্য গভীর ঘুম অপরিহার্য।
- টেস্টোস্টেরন লেভেল: পুরুষদের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ঘুম না হলে টেস্টোস্টেরন হরমোনের মাত্রা দ্রুত কমে যায়, যা যৌন অক্ষমতা ও শারীরিক দুর্বলতার প্রধান কারণ।
- ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ: ঘুমের অভাবে শরীরে ‘ঘেরলিন’ (ক্ষুধা বাড়ানোর হরমোন) বেড়ে যায় এবং ‘লেপটিন’ (তৃপ্তি দেওয়ার হরমোন) কমে যায়। ফলে ওজন দ্রুত বাড়তে থাকে।
৩. হার্ট এবং রক্তচাপের ওপর প্রভাব
পর্যাপ্ত ঘুম না হলে মস্তিষ্কের ‘অ্যামিগডালা’ (যা আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে) অতিসক্রিয় হয়ে ওঠে। ফলে ছোটখাটো বিষয়েও মানুষ রেগে যায়, হতাশ বোধ করে বা এনজাইটিতে ভোগে। মূলত ঘুমের অভাবেই অনেক সময় মানসিক অস্থিরতা শুরু হয়।
ভালো ঘুমের জন্য ৩টি কার্যকরী টিপস:
১. ডিজিটাল ডিটক্স: ঘুমানোর অন্তত ৩০ মিনিট আগে মোবাইল বা ল্যাপটপ থেকে দূরে থাকুন। স্ক্রিনের নীল আলো ‘মেলাটোনিন’ (ঘুমের হরমোন) তৈরি হতে বাধা দেয়।
২. রুটিন মেনে চলা: প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করুন, এমনকি ছুটির দিনেও।
৩. বিছানার পরিবেশ: ঘর অন্ধকার এবং কিছুটা শীতল রাখার চেষ্টা করুন। এটি দ্রুত গভীর ঘুমে যেতে সাহায্য করে।
ঘুম বিলাসিতা নয়, এটি বেঁচে থাকার জন্য অক্সিজেন বা খাবারের মতোই জরুরি। শরীর এবং মনের পূর্ণ বিকাশের জন্য আজ রাত থেকেই আপনার ঘুমকে অগ্রাধিকার দিন।
আপনার ঘুম কেমন হয়, জানাতে ভুলবেন না।